হানাফি ফিকহ অনুযায়ী সাধারণ পারিবারিক কাঠামোর জন্য নির্ধারিত উত্তরাধিকার অংশ গণনা করুন — আউল, রদ্দ ও উমারিয়্যাতাইন বিশেষ নিয়মসহ। মুসলিম পারিবারিক আইন (শরীয়ত প্রয়োগ) আইন ১৯৩৭ ভিত্তিক।
সাধারণ পারিবারিক কাঠামোর জন্য হানাফি ফিকহ অনুযায়ী নির্ধারিত উত্তরাধিকার অংশ গণনা করুন — স্বামী/স্ত্রী, পিতা-মাতা, পুত্র-কন্যা ও সহোদর ভাইবোন।
অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া খরচ, ঋণ ও সর্বোচ্চ ১/৩ অসিয়ত বাদ দেওয়ার পর অবশিষ্ট নিট পরিমাণ
| ওয়ারিশ | অংশ | শতাংশ | টাকার পরিমাণ | নিয়ম |
|---|---|---|---|---|
| মাতা | 1/6 | 16.67% | ৳166,667 | নির্ধারিত অংশ (কুরআনিক ফরদ) |
| পুত্র(গণ) (2) | 2/3 | 66.66% | ৳666,666 প্রতিজন: ৳333,333 | অবশিষ্টাংশ (আসাবা) |
| কন্যা(গণ) | 1/6 | 16.67% | ৳166,667 | অবশিষ্টাংশ (আসাবা) |
| মোট (যাচাই) | — | 100.00% | ৳1,000,000 | — |
হানাফি ফিকহ অনুযায়ী সাধারণ পারিবারিক কাঠামোর জন্য নির্ধারিত অংশ — মুসলিম পারিবারিক আইন (শরীয়ত প্রয়োগ) আইন ১৯৩৭
| ওয়ারিশ | শর্ত | অংশ | নোট |
|---|---|---|---|
| স্বামী | মৃত স্ত্রীর কোনো পুত্র/কন্যা না থাকলে | 1/2 | কুরআন ৪:১২ অনুযায়ী নির্ধারিত অংশ। |
| স্বামী | মৃত স্ত্রীর পুত্র বা কন্যা থাকলে | 1/4 | সন্তান থাকলে স্বামীর অংশ অর্ধেক হয়ে যায়। |
| স্ত্রী (একজন) | মৃত স্বামীর কোনো পুত্র/কন্যা না থাকলে | 1/4 | কুরআন ৪:১২ অনুযায়ী নির্ধারিত অংশ। |
| স্ত্রী/স্ত্রীগণ | মৃত স্বামীর পুত্র বা কন্যা থাকলে; একাধিক স্ত্রী থাকলে ১/৮ সমানভাবে ভাগ হবে | 1/8 | সন্তান থাকলে স্ত্রীর সম্মিলিত অংশ অর্ধেক হয়ে যায়। |
| মাতা | মৃতের কোনো সন্তান না থাকলে এবং ২-এর বেশি সহোদর ভাইবোন না থাকলে | 1/3 | উমারিয়্যাতাইন পরিস্থিতিতে ব্যতিক্রম প্রযোজ্য (নিচে দেখুন)। |
| মাতা | মৃতের সন্তান থাকলে, অথবা ২ বা তার বেশি সহোদর ভাইবোন থাকলে | 1/6 | ভাইবোন থাকলে পিতার উপস্থিতিতে তারা নিজেরা উত্তরাধিকার না পেলেও মাতার অংশ কমিয়ে দেয়। |
| মাতা | উমারিয়্যাতাইন: শুধুমাত্র পিতা + মাতা + একজন স্বামী/একজন স্ত্রী উপস্থিত (কোনো সন্তান বা ভাইবোন নেই) | স্বামী/স্ত্রীর অংশের পর অবশিষ্টের ১/৩ (varies) | মাতা মোট সম্পত্তির ১/৩ না পেয়ে, স্বামী/স্ত্রীর অংশ বাদ দেওয়ার পর অবশিষ্টাংশের ১/৩ পান — যাতে পিতা মাতার চেয়ে বেশি পান। |
| পিতা | মৃতের পুত্র থাকলে | 1/6 | পুত্র অবশিষ্টাংশ শোষণ করেন, তাই পিতা শুধু নির্ধারিত অংশ পান। |
| পিতা | মৃতের শুধু কন্যা(গণ) থাকলে, কোনো পুত্র নেই | 1/6 + অবশিষ্টাংশ (varies) | পিতা নির্ধারিত ১/৬ অংশ এবং কন্যাদের অংশের পর অবশিষ্ট সবটুকু আসাবা হিসেবে পান। |
| পিতা | মৃতের কোনো সন্তান না থাকলে | সম্পূর্ণ অবশিষ্টাংশ (varies) | পিতা সম্পূর্ণরূপে আসাবা (অবশিষ্টাংশগ্রহীতা) হিসেবে স্বামী/স্ত্রী ও মাতার নির্ধারিত অংশের পর যা বাকি থাকে তা পান। |
| কন্যা (একজন) | কোনো পুত্র নেই, একজন কন্যা | 1/2 | পুত্র না থাকলে একমাত্র কন্যা নির্ধারিত অংশ পান। |
| কন্যাগণ (২ বা তার বেশি) | কোনো পুত্র নেই, ২ বা তার বেশি কন্যা | 2/3 | ২/৩ সমানভাবে সকল কন্যার মধ্যে ভাগ হয়। |
| পুত্র ও কন্যা একসাথে | পুত্র উপস্থিত থাকলে | অবশিষ্টাংশের ২:১ অনুপাতে (varies) | পুত্র উপস্থিত থাকলে কন্যা আর পৃথক নির্ধারিত অংশগ্রহীতা নন — উভয়ে মিলে অবশিষ্টাংশ ২:১ অনুপাতে (প্রতি পুত্র = ২ ভাগ, প্রতি কন্যা = ১ ভাগ) ভাগ করেন। |
| সহোদর বোন (একজন) | কোনো পিতা বা বংশধর নেই, কোনো সহোদর ভাই নেই, একজন সহোদর বোন | 1/2 | পিতা বা সন্তান উপস্থিত থাকলে ভাইবোন সম্পূর্ণরূপে বাদ পড়েন। |
| সহোদর বোনগণ (২ বা তার বেশি) | কোনো পিতা বা বংশধর নেই, কোনো সহোদর ভাই নেই, ২ বা তার বেশি সহোদর বোন | 2/3 | ২/৩ সমানভাবে সকল বোনের মধ্যে ভাগ হয়। |
| সহোদর ভাই ও বোন একসাথে | কোনো পিতা বা বংশধর নেই, সহোদর ভাই উপস্থিত | অবশিষ্টাংশের ২:১ অনুপাতে (varies) | ভাই উপস্থিত থাকলে ভাই-বোন মিলে অবশিষ্টাংশ ২:১ অনুপাতে (প্রতি ভাই = ২ ভাগ, প্রতি বোন = ১ ভাগ) আসাবা হিসেবে ভাগ করেন। |
মুসলিম পারিবারিক আইন (শরীয়ত প্রয়োগ) আইন ১৯৩৭ ও হানাফি ফিকহ ভিত্তিক গাইড
ইসলামি আইনে একজন মুসলিম তার সম্পত্তির সর্বোচ্চ কত অংশ অসিয়তনামার মাধ্যমে অ-উত্তরাধিকারীকে দিতে পারেন এবং কেন ফারায়েজ নির্ধারিত উত্তরাধিকারীদের অংশ পরিবর্তন করা যায় না তার ব্যাখ্যা।
ইসলামি ফারায়েজে পুত্র-কন্যার ২:১ অনুপাতের পেছনের প্রচলিত আর্থিক দায়িত্ব-ভিত্তিক ব্যাখ্যা এবং কেন এটি নারীর প্রতি বৈষম্য নয় বলে ইসলামি শিক্ষায় ব্যাখ্যা করা হয়।
যখন কুরআনিক নির্ধারিত অংশগুলোর যোগফল সম্পত্তির চেয়ে বেশি (আউল) বা কম (রদ্দ) হয়, তখন হানাফি ফিকহে কীভাবে সমন্বয় করা হয় তার ব্যাখ্যা, বাস্তব উদাহরণসহ।
ব্যাংক হিসাব, জমি নামজারি এবং সম্পত্তি হস্তান্তরের জন্য ওয়ারিশ সনদ কেন প্রয়োজন এবং ইউনিয়ন পরিষদ/আদালত থেকে তা কীভাবে সংগ্রহ করবেন।
কয়েকটি সাধারণ বাংলাদেশি পারিবারিক কাঠামো দিয়ে ফারায়েজ বণ্টন ধাপে ধাপে দেখানো হয়েছে — যেমন স্ত্রী+সন্তান, শুধু কন্যা+পিতা-মাতা, এবং সন্তানহীন দম্পতি।
প্রকৃত ফারায়েজ বণ্টন শুরুর আগে একটি এস্টেট থেকে কোন কোন খরচ কোন ক্রমে বাদ দিতে হয় তার ইসলামি আইনি ধাপ।
মুসলিম পারিবারিক আইন (শরীয়ত প্রয়োগ) আইন ১৯৩৭ ও হানাফি ফিকহ ভিত্তিক প্রশ্নোত্তর
এই ক্যালকুলেটরটি শুধুমাত্র সাধারণ পারিবারিক কাঠামো কভার করে — স্বামী/স্ত্রী, পিতা, মাতা, পুত্র, কন্যা, সহোদর ভাই ও সহোদর বোন। এটি দাদা-দাদি/নানা-নানি, বৈমাত্রেয়/বৈপিত্রেয় ভাইবোন, একাধিক প্রজন্মের বংশধর, জটিল আসাবা-মাআল-গায়র পরিস্থিতি, শিয়া উত্তরাধিকার আইন, অথবা অ-মুসলিম (হিন্দু/খ্রিস্টান/বৌদ্ধ) উত্তরাধিকার আইন কভার করে না — এগুলো সম্পূর্ণ ভিন্ন বিধিবিধান অনুসরণ করে। এই তালিকার বাইরের কোনো উত্তরাধিকারী থাকলে অবশ্যই একজন যোগ্য আলেম, আইনজীবী, অথবা আদালত/ইউনিয়ন পরিষদ ওয়ারিশ সনদের সাহায্য নিন।
এই ক্যালকুলেটরটি একটি শিক্ষামূলক নির্দেশিকা মাত্র, আইনি বা ধর্মীয় ফতোয়া নয়। প্রকৃত সম্পত্তি বণ্টনের আগে একজন যোগ্য আলেম বা উত্তরাধিকার আইনজীবীর পরামর্শ নিন এবং প্রয়োজনে আদালত/ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ওয়ারিশ সনদ সংগ্রহ করুন।
ইনপুট করা সম্পদের পরিমাণ ধরে নেওয়া হয় যে তা মৃতের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার খরচ, সকল ঋণ পরিশোধ, এবং (যদি থাকে) বৈধ অসিয়তনামা অনুযায়ী অ-উত্তরাধিকারীকে সর্বোচ্চ ১/৩ অংশ প্রদানের পর অবশিষ্ট নিট সম্পদ — অর্থাৎ প্রকৃত ফারায়েজ বণ্টনযোগ্য পরিমাণ।