ইসলামি আইনে একজন মুসলিম তার সম্পত্তির সর্বোচ্চ কত অংশ অসিয়তনামার মাধ্যমে অ-উত্তরাধিকারীকে দিতে পারেন এবং কেন ফারায়েজ নির্ধারিত উত্তরাধিকারীদের অংশ পরিবর্তন করা যায় না তার ব্যাখ্যা।
ইসলামি উত্তরাধিকার আইনে দুটি স্বতন্ত্র প্রক্রিয়া কাজ করে: অসিয়ত (উইল/ওয়াসিয়্যাহ) এবং ফারায়েজ (নির্ধারিত উত্তরাধিকার বণ্টন)। একজন মুসলিম তার সম্পত্তির সর্বোচ্চ ১/৩ অংশ পর্যন্ত একটি বৈধ অসিয়তনামার মাধ্যমে যে কাউকে (এমনকি অ-আত্মীয়কেও) দান করতে পারেন — কিন্তু এই ১/৩ সীমা নির্ধারিত উত্তরাধিকারী (ওয়ারিশ) এর অতিরিক্ত ব্যক্তির জন্য প্রযোজ্য।
একজন নির্ধারিত ওয়ারিশ (যেমন পুত্র, কন্যা, স্ত্রী) এর জন্য অসিয়ত করা সাধারণত অবৈধ, কারণ কুরআন ইতিমধ্যে তাদের অংশ নির্দিষ্ট করে দিয়েছে — একজন ওয়ারিশকে অতিরিক্ত সম্পত্তি দেওয়া অন্য ওয়ারিশদের নির্ধারিত অংশ ক্ষুণ্ণ করবে, যা ন্যায়বিচারের নীতির পরিপন্থী। তবে সকল ওয়ারিশ সম্মত হলে ব্যতিক্রম গ্রহণযোগ্য।
যদি কেউ ১/৩-এর বেশি অসিয়ত করেন, তাহলে অতিরিক্ত অংশ কার্যকর হওয়ার জন্য সকল আইনি ওয়ারিশের সম্মতি প্রয়োজন — অন্যথায় অতিরিক্ত অংশ বাতিল হয়ে সাধারণ ফারায়েজ বণ্টনে ফিরে যায়।
এই ক্যালকুলেটরে ইনপুট করা সম্পদের পরিমাণ ধরে নেওয়া হয় যে তা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার খরচ, ঋণ, এবং (যদি থাকে) বৈধ ১/৩-সীমার অসিয়ত ইতিমধ্যে বাদ দেওয়ার পর অবশিষ্ট নিট সম্পদ।
সাধারণ পারিবারিক কাঠামোর জন্য হানাফি ফিকহ অনুযায়ী নির্ধারিত উত্তরাধিকার অংশ গণনা করুন — স্বামী/স্ত্রী, পিতা-মাতা, পুত্র-কন্যা ও সহোদর ভাইবোন।
অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া খরচ, ঋণ ও সর্বোচ্চ ১/৩ অসিয়ত বাদ দেওয়ার পর অবশিষ্ট নিট পরিমাণ
| ওয়ারিশ | অংশ | শতাংশ | টাকার পরিমাণ | নিয়ম |
|---|---|---|---|---|
| মাতা | 1/6 | 16.67% | ৳166,667 | নির্ধারিত অংশ (কুরআনিক ফরদ) |
| পুত্র(গণ) (2) | 2/3 | 66.66% | ৳666,666 প্রতিজন: ৳333,333 | অবশিষ্টাংশ (আসাবা) |
| কন্যা(গণ) | 1/6 | 16.67% | ৳166,667 | অবশিষ্টাংশ (আসাবা) |
| মোট (যাচাই) | — | 100.00% | ৳1,000,000 | — |