নগদ অর্থ, স্বর্ণ-রূপা, ব্যবসায়িক পণ্য, শেয়ার পোর্টফোলিও, প্রভিডেন্ট ফান্ড ও কৃষিজ উশরের পূর্ণাঙ্গ শরীয়াহ সম্মত হিসাব নিরূপণ করুন এবং ব্যক্তিগত বিবরণী শিট প্রিন্ট করুন।
বাজুস (BAJUS) বাজারদর ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ মানদণ্ড
💡 নগদ টাকা, ব্যবসায়িক পণ্য ও একাধিক মিশ্র সম্পদের ক্ষেত্রে গরীব-মিসকিনদের সর্বাধিক কল্যাণে রৌপ্য নিসাব গ্রহণ শরীয়াহ সম্মত।
💡 কারো কাছে যদি নগদ টাকা বা ব্যবসা না থেকে শুধুমাত্র স্বর্ণ থাকে, তবে ৭.৫ ভরি পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত যাকাত ফরজ হয় না।
কুরআন-সুন্নাহ ও সমকালীন ইসলামিক অর্থনীতিবিদদের ফতোয়া আলোকে যাকাতের প্রধান নিয়মসমূহ
সম্পদ নিসাব সীমায় পৌঁছানোর পর ঠিক এক চান্দ্র বছর (৩৫৪ দিন) পূর্ণ হলে উদ্বৃত্ত নিট সম্পদের ওপর ২.৫% হারে যাকাত আদায় করা ফরজ। বছরের মাঝে সম্পদের হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটলেও হিসাবের নির্ধারিত সমাপনী দিনে যা অবশিষ্ট থাকবে তার ওপর হিসাব হবে।
দোকানের পণ্য, গোডাউনের স্টক ও কাঁচামাল বর্তমান পাইকারি বাজারদরে (Wholesale Value) মূল্যায়ন করতে হবে। প্রতিষ্ঠানের ব্যবহারের আসবাবপত্র, আলমারি, শোকেস, কম্পিউটার, কারখানা যন্ত্রপাতি ও কোম্পানির গাড়ির ওপর কোনো যাকাত নেই।
ট্রেডিং শেয়ার পূর্ণ বাজারমূল্যে যাকাতযোগ্য। দীর্ঘমেয়াদী শেয়ারের নিট তরল সম্পদের ওপর ২৫%-৩০% প্রক্সি নিয়মে যাকাত ধার্য হবে। অর্জিত লভ্যাংশে কোম্পানির পরোক্ষ সুদ থাকলে AAOIFI মানদণ্ড ২১ অনুসারে তা সাদকা করে হালাল আয় আলাদা করতে হবে।
কৃষি জমিতে উৎপন্ন শস্যের যাকাতকে 'উশর' বলা হয়। এটি ফসল তোলার সাথে সাথেই দিতে হয় (১ বছর অপেক্ষার শর্ত নেই)। বৃষ্টির পানিতে উৎপন্ন ফসলে ১০% এবং নিজের খরচে কৃত্রিম সেচ দেওয়া ফসলে ৫% হারে উশর দিতে হয়।
মহান আল্লাহ তাআলা কুরআনে যাকাত গ্রহণের যোগ্য ৮ শ্রেণির হকদার নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন
যাদের নিজস্ব কোনো সম্পদ বা জীবিকার সংস্থান নেই অথবা যা আছে তা নিসাবের চেয়ে অনেক কম।
যাদের কিছুটা আয় আছে কিন্তু মৌলিক চাহিদা (অন্ন, বস্ত্র, চিকিৎসা, বাসস্থান) মেটাতে অক্ষম।
ইসলামি রাষ্ট্র বা অনুমোদিত সংস্থা কর্তৃক যাকাত আদায় ও বণ্টনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
নওমুসলিম বা ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট ব্যক্তিদের আর্থিক ও সামাজিক পুনর্বাসনের জন্য।
অন্যায়ভাবে বন্দি বা ঋণদাসে পরিণত হওয়া মানুষদের মুক্ত করার জন্য।
যে ব্যক্তি বৈধ প্রয়োজনে ঋণগ্রস্ত হয়ে পরিশোধে সম্পূর্ণ অপারগ।
দ্বীন প্রচার, ইসলামি জ্ঞান বিস্তার এবং সমাজের কল্যাণমূলক জিহাদ ও প্রচেষ্টায় নিয়োজিত।
সফরকালে নিঃস্ব হয়ে পড়া মুসাফির, নিজ দেশে যতই ধনী হোক না কেন সফররত অবস্থায় সাহায্যপ্রার্থী।
যাকাত ফরজ হওয়ার প্রধান শর্তগুলো হলো: (১) মুসলিম হওয়া, (২) স্বাধীন ও প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া, (৩) জ্ঞানের অধিকারী হওয়া, (৪) সম্পদের পূর্ণ মালিকানা থাকা, (৫) সম্পদ নিসাব পরিমাণ (বা তার বেশি) হওয়া, (৬) সম্পদ নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচের অতিরিক্ত ও বর্ধনশীল হওয়া, এবং (৭) নিসাব পরিমাণ সম্পদ পূর্ণ এক চন্দ্রবর্ষ (হাওলানুল হাওল) মালিকানায় থাকা।
কারো কাছে যদি শুধু স্বর্ণ থাকে, তবে ৭.৫ ভরি স্বর্ণ থাকলেই কেবল স্বর্ণ নিসাব প্রযোজ্য হবে। কিন্তু যদি স্বর্ণের পাশাপাশি নগদ টাকা, ব্যাংক ব্যালান্স বা ব্যবসায়িক পণ্য থাকে, তবে জমহুর (অধিকাংশ) ওলামায়ে কেরামের সর্বসম্মত ফতোয়া অনুযায়ী দরিদ্র ও মিসকিনদের সর্বাধিক কল্যাণে ৫২.৫ ভরি রৌপ্যের সমমূল্যের নিসাব অনুসরণ করা ওয়াজিব।
বছরের যে দিনে যাকাতের হিসাব করা হচ্ছে, সেদিন দোকানে বা কারখানায় বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুদকৃত পণ্য (Finished goods) এবং কাঁচামালের বর্তমান পাইকারি বাজারমূল্যের (Wholesale/Market Value) ওপর যাকাত হিসাব করতে হবে। ক্রয়মূল্য বা বিক্রির খুচরা লাভ মূল্য ধরা যাবে না। তবে স্থায়ী সম্পদ (যেমন: দোকানঘর, আসবাবপত্র, যন্ত্রপাতি ও ডেলিভারি গাড়ি) যাকাতমুক্ত।
স্বল্পমেয়াদী ট্রেডিং শেয়ারের ক্ষেত্রে মোট বর্তমান পোর্টফোলিও বাজারমূল্যের ওপর ২.৫% যাকাত প্রযোজ্য। দীর্ঘমেয়াদী ডিভিডেন্ড বিনিয়োগ শেয়ারের ক্ষেত্রে কোম্পানির নিট তরল সম্পদের অংশ হিসেবে ২৫%-৩০% প্রক্সি ভিত্তিতে যাকাত দিতে হয়। এছাড়া কোম্পানির অর্জিত আয়ে কোনো সুদী বা অননুমোদিত অংশ থাকলে তা AAOIFI মানদণ্ড ২১ অনুসারে সওয়াবের নিয়ত ছাড়া দান করে লভ্যাংশ বিশুদ্ধ (Purify) করতে হবে।
সরকারি বাধ্যবাধকতামূলক প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা চাকরিজীবীর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকে না, তাই প্রতি বছর এর ওপর যাকাত ফরজ নয়; বরং চাকরি শেষে টাকা হস্তগত হলে প্রাপ্ত আসল ও হালাল মুনাফার ওপর যাকাত প্রদেয় হবে। তবে ফান্ডে যদি নিজের ইচ্ছায় অতিরিক্ত টাকা জমা করা হয় (Voluntary PF) এবং তা যেকোনো সময় উত্তোলনযোগ্য হয়, তবে সেই অংশের ওপর প্রতি বছর যাকাত প্রযোজ্য হবে।
দীর্ঘমেয়াদী ঋণের (যেমন: ২০ বছরের হাউজিং লোন) পুরো বকেয়া টাকা একসাথে যাকাতযোগ্য সম্পদ থেকে বাদ দেওয়া জায়েয নেই। শুধুমাত্র চলমান চন্দ্রবর্ষে প্রদেয় ১২ মাসের কিস্তির আসল টাকা দেনা হিসেবে বাদ দেওয়া যাবে।