স্বর্ণের নিসাব (৭.৫ ভরি) বনাম রৌপ্যের নিসাব (৫২.৫ ভরি): বাংলাদেশে কোন মানদণ্ড প্রযোজ্য, কেন রৌপ্য নিসাব অধিক কল্যাণকর এবং ক্যারেটভিত্তিক মূল্যায়ন পদ্ধতি।
বাজুস (BAJUS) বাজারদর ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ মানদণ্ড
💡 নগদ টাকা, ব্যবসায়িক পণ্য ও একাধিক মিশ্র সম্পদের ক্ষেত্রে গরীব-মিসকিনদের সর্বাধিক কল্যাণে রৌপ্য নিসাব গ্রহণ শরীয়াহ সম্মত।
💡 কারো কাছে যদি নগদ টাকা বা ব্যবসা না থেকে শুধুমাত্র স্বর্ণ থাকে, তবে ৭.৫ ভরি পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত যাকাত ফরজ হয় না।
| নিসাব মানদণ্ড | হাদিস নির্দেশিত পরিমাণ | গ্রাম একক | বর্তমান বাজারমূল্য (BDT) | প্রযোজ্য ক্ষেত্র |
|---|---|---|---|---|
| 🥈 রৌপ্য নিসাব (Silver Standard) | ৫২.৫ ভরি / তোলা (২০০ দিরহাম) | ৬১২.৩৬ গ্রাম | ৳১,২৮,৫৯৬ | নগদ টাকা, ব্যাংক আমানত, ব্যবসা, শেয়ার ও মিশ্র সম্পদ (সর্বাধিক প্রযোজ্য) |
| 🥇 স্বর্ণ নিসাব (Gold Standard) | ৭.৫ ভরি / তোলা (২০ দিনার) | ৮৭.৪৮ গ্রাম | ৳১০,০৬,০২০ | শুধুমাত্র যার কাছে স্বর্ণ ছাড়া অন্য কোনো ধরনের সম্পদ বা নগদ টাকা নেই |
💡 ফিকহি ব্যাখ্যা: ইসলামিক অর্থনীতিবিদদের সর্বসম্মত মত হলো, যে ব্যক্তির কাছে নগদ ৫০ হাজার টাকা এবং ২ ভরি স্বর্ণ আছে, তার ক্ষেত্রে স্বর্ণ নিসাব কার্যকর হবে না; কারণ তার সম্পদ মিশ্র। রৌপ্য নিসাব (৳১,২৮,৫৯৬) অতিক্রম করায় তার সম্পূর্ণ সম্পদের ওপর যাকাত ফরজ হবে।
বাজুস (BAJUS) মানদণ্ড অনুসারে বিভিন্ন ক্যারেটের স্বর্ণের খাঁটি অনুপাত ও প্রতি ভরি বাজারদর
| স্বর্ণের ক্যারেট | বিশুদ্ধতার অনুপাত | প্রতি গ্রাম দর | প্রতি ভরি দর (১১.৬৬৪ গ্রাম) |
|---|---|---|---|
| ২৪ ক্যারেট (৯৯.৯% খাঁটি) | ৯৯.৯% | ৳১২,৫০০ | ৳১,৪৫,৮০০ |
| ২২ ক্যারেট (ক্যাডমিয়াম) | ৯১.৬% | ৳১১,৫০০ | ৳১,৩৪,১৩৬ |
| ২১ ক্যারেট | ৮৭.৫% | ৳১০,৯৮০ | ৳১,২৮,০৭১ |
| ১৮ ক্যারেট | ৭৫.০% | ৳৯,৪১০ | ৳১,০৯,৭৫৮ |
| সনাতন পদ্ধতি | ৬৬.৭% | ৳৭,৮৪০ | ৳৯১,৪৪৬ |
নিসাব (نصاب) হলো ইসলামিক শরীয়াহ কর্তৃক নির্ধারিত সম্পদের সেই ন্যূনতম সীমা বা মানদণ্ড, যা কারো মালিকানায় পূর্ণ এক চান্দ্র বছর থাকলে তার ওপর যাকাত প্রদান ফরজ হয়। নিসাবের নিচে সম্পদ থাকলে যাকাত প্রদেয় হয় না।
রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর হাদিস অনুসারে: (১) স্বর্ণের নিসাব হলো ২০ দিনার বা ৭.৫ ভরি (৮৭.৪৮ গ্রাম / ২.৮১২৫ ট্রয় আউন্স), এবং (২) রৌপ্য বা রূপার নিসাব হলো ২০০ দিরহাম বা ৫২.৫ ভরি (৬১২.৩৬ গ্রাম / ১৯.৬৮৭৫ ট্রয় আউন্স)।
নবীজী ﷺ-এর যুগে ৭.৫ ভরি স্বর্ণ এবং ৫২.৫ ভরি রূপার ক্রয়ক্ষমতা ও বাজারদর প্রায় সমান ছিল (১ দিনার = ১০ দিরহাম)। ফলে যে কোনো একটি মানদণ্ড ধরলেই ফলাফল একই হতো। কিন্তু আধুনিক যুগে রৌপ্যের মূল্য স্বর্ণের তুলনায় অনেক কমে যাওয়ায় দুটি নিসাবের মধ্যে বিশাল মূল্যের ব্যবধান তৈরি হয়েছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এবং উপমহাদেশের শীর্ষ ফিকহ একাডেমিগুলোর সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী: কারো কাছে যদি নগদ টাকা, ব্যাংকে জমানো আমানত, ব্যবসায়িক পণ্য বা স্বর্ণ-রূপা মিশ্রিত অবস্থায় থাকে, তবে দরিদ্র ও মিসকিনদের সর্বাধিক কল্যাণে (আনফা' লিল ফুক্বারা) রৌপ্য নিসাব (৫২.৫ ভরি) অনুসরণ করা ওয়াজিব। শুধু যার কাছে একমাত্র স্বর্ণ ছাড়া আর কোনো সম্পদ নেই, তার জন্য ৭.৫ ভরি স্বর্ণ নিসাব প্রযোজ্য।
হানাফি মাযহাব এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমদের মতে নারীদের নিত্য ব্যবহার্য ও জমাকৃত সকল স্বর্ণ-রূপার অলংকারের ওপরই নিসাব পূর্ণ হলে প্রতি বছর ২.৫% হারে যাকাত দিতে হবে। অলংকার বানানোর মজুরি বাদ দিয়ে শুধু খাঁটি ধাতুর বর্তমান বাজারদরে নিখাদ ওজনের ওপর যাকাত প্রযোজ্য।