যখন কুরআনিক নির্ধারিত অংশগুলোর যোগফল সম্পত্তির চেয়ে বেশি (আউল) বা কম (রদ্দ) হয়, তখন হানাফি ফিকহে কীভাবে সমন্বয় করা হয় তার ব্যাখ্যা, বাস্তব উদাহরণসহ।
সাধারণত প্রতিটি ওয়ারিশের নির্ধারিত অংশ (ফরদ) এমনভাবে ডিজাইন করা যাতে সেগুলোর যোগফল সম্পত্তির ঠিক ১০০% হয় — কিন্তু কিছু পারিবারিক কাঠামোতে গাণিতিকভাবে এই যোগফল ১০০%-এর বেশি বা কম হয়ে যায়। হানাফি ফিকহ এই দুটি পরিস্থিতির জন্য পৃথক সমাধান দিয়েছে: আউল ও রদ্দ।
আউল (আনুপাতিক হ্রাস) ঘটে যখন নির্ধারিত অংশগুলোর যোগফল ১০০%-এর বেশি হয়ে যায় — যেমন একজন স্বামী + দুইজন সহোদর বোন + মাতা একসাথে উপস্থিত থাকলে (১/২ + ২/৩ + ১/৬ = ৪/৩, যা ১০০%-এর বেশি)। এই ক্ষেত্রে প্রতিটি অংশ সমানুপাতিকভাবে কমিয়ে দেওয়া হয় যাতে যোগফল ঠিক ১০০%-এ আসে — প্রতিটি ওয়ারিশ তার আপেক্ষিক অনুপাত বজায় রেখে কিছুটা কম পান।
রদ্দ (আনুপাতিক প্রত্যর্পণ) ঘটে যখন নির্ধারিত অংশগুলোর যোগফল ১০০%-এর কম হয় এবং কোনো অবশিষ্টাংশগ্রহীতা (আসাবা) উপস্থিত না থাকেন — যেমন শুধু স্ত্রী ও মাতা উপস্থিত থাকলে (১/৪ + ১/৩ = ৭/১২, যা ১০০%-এর কম, এবং কোনো আসাবা নেই)। এই ক্ষেত্রে অবশিষ্ট অংশ নির্ধারিত ওয়ারিশদের মধ্যে তাদের অনুপাত অনুযায়ী ফেরত (রদ্দ) দেওয়া হয় — তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ হানাফি মত অনুযায়ী স্বামী/স্ত্রী রদ্দে অংশগ্রহণ করেন না (ব্যতিক্রম: স্বামী/স্ত্রী একমাত্র উপস্থিত ওয়ারিশ হলে)।
এই ক্যালকুলেটর উভয় পরিস্থিতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সনাক্ত করে এবং প্রতিটি ওয়ারিশের ফলাফলে কোন নিয়ম (নির্ধারিত/আউল/রদ্দ/অবশিষ্টাংশ) প্রয়োগ হয়েছে তা স্পষ্টভাবে দেখায়।
সাধারণ পারিবারিক কাঠামোর জন্য হানাফি ফিকহ অনুযায়ী নির্ধারিত উত্তরাধিকার অংশ গণনা করুন — স্বামী/স্ত্রী, পিতা-মাতা, পুত্র-কন্যা ও সহোদর ভাইবোন।
অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া খরচ, ঋণ ও সর্বোচ্চ ১/৩ অসিয়ত বাদ দেওয়ার পর অবশিষ্ট নিট পরিমাণ
| ওয়ারিশ | অংশ | শতাংশ | টাকার পরিমাণ | নিয়ম |
|---|---|---|---|---|
| মাতা | 1/6 | 16.67% | ৳166,667 | নির্ধারিত অংশ (কুরআনিক ফরদ) |
| পুত্র(গণ) (2) | 2/3 | 66.66% | ৳666,666 প্রতিজন: ৳333,333 | অবশিষ্টাংশ (আসাবা) |
| কন্যা(গণ) | 1/6 | 16.67% | ৳166,667 | অবশিষ্টাংশ (আসাবা) |
| মোট (যাচাই) | — | 100.00% | ৳1,000,000 | — |