একটি বাস্তব উদাহরণের মাধ্যমে দেখুন কীভাবে দুটি ভিন্ন সম্পত্তি (একটি আবাসিক, একটি বাণিজ্যিক) থেকে ভাড়া আয়ের নিট কর দায় গণনা করা হয়, ধাপে ধাপে।
ধরা যাক, রহিম সাহেবের একটি আবাসিক ফ্ল্যাট আছে যা থেকে তিনি বছরে ৳৩,৬০,০০০ ভাড়া পান, এবং একটি দোকান আছে যা থেকে বছরে ৳২,৪০,০০০ ভাড়া পান। তিনি ফ্ল্যাটের জন্য ৳১৫,০০০ পৌরকর ও ৳৫,০০০ বীমা প্রিমিয়াম পরিশোধ করেন, এবং দোকান কেনার ঋণের উপর ৳৪০,০০০ সুদ পরিশোধ করেন।
ফ্ল্যাট (আবাসিক): মেরামত ভাতা = ৩,৬০,০০০ × ২৫% = ৯০,০০০। মোট বাদ = ৯০,০০০ + ১৫,০০০ + ৫,০০০ = ১,১০,০০০। নিট আয় = ৩,৬০,০০০ − ১,১০,০০০ = ২,৫০,০০০।
দোকান (বাণিজ্যিক): মেরামত ভাতা = ২,৪০,০০০ × ৩০% = ৭২,০০০। মোট বাদ = ৭২,০০০ + ৪০,০০০ (ঋণের সুদ) = ১,১২,০০০। নিট আয় = ২,৪০,০০০ − ১,১২,০০০ = ১,২৮,০০০।
রহিম সাহেবের মোট নিট গৃহসম্পত্তি আয় = ২,৫০,০০০ + ১,২৮,০০০ = ৩,৭৮,০০০। ধরা যাক তার বেতন থেকে অন্যান্য করযোগ্য আয় ৳৮,০০,০০০। শুধুমাত্র বেতনের উপর কর (সাধারণ ক্যাটাগরি, করমুক্ত সীমা ৳৩,৫০,০০০): প্রথম ৩,৫০,০০০ = ০, পরবর্তী ১,০০,০০০ × ৫% = ৫,০০০, পরবর্তী ৩,৫০,০০০ × ১০% = ৩৫,০০০ — মোট ৪০,০০০ টাকা।
সম্মিলিত আয় (৮,০০,০০০ + ৩,৭৮,০০০ = ১১,৭৮,০০০) এর উপর কর: প্রথম ৩,৫০,০০০ = ০, পরবর্তী ১,০০,০০০ × ৫% = ৫,০০০, পরবর্তী ৪,০০,০০০ × ১০% = ৪০,০০০, পরবর্তী ৩,২৮,০০০ × ১৫% = ৪৯,২০০ — মোট ৯৪,২০০ টাকা। ফলে ভাড়া আয়ের কারণে অতিরিক্ত কর = ৯৪,২০০ − ৪০,০০০ = ৫৪,২০০ টাকা — যা তার প্রকৃত নিট ভাড়া লাভ থেকে বিয়োগ করে প্রকৃত লাভ বোঝা যাবে।
আয়কর আইন ২০২৩ এর গৃহসম্পত্তি আয় খাত অনুযায়ী মেরামত ভাতা, পৌরকর, বীমা ও ঋণের সুদ বাদ দিয়ে নিট ভাড়া আয় ও প্রকৃত অতিরিক্ত কর দায় গণনা করুন।
শতাংশ হলো ফ্ল্যাট মেরামত ভাতার হার (কোনো রশিদ প্রয়োজন নেই)
| মোট বার্ষিক ভাড়া | ৳360,000 |
| মেরামত ভাতা (25%) | −৳90,000 |
| পৌরকর | −৳15,000 |
| বীমা প্রিমিয়াম | −৳5,000 |
| ঋণের সুদ | −৳0 |
| নিট ভাড়া আয় | ৳250,000 |