আয়কর আইন ২০২৩ অনুযায়ী গৃহসম্পত্তি আয়ের বিপরীতে একটি সরলীকৃত, নথিবিহীন মেরামত ভাতা প্রযোজ্য — আবাসিকের জন্য ২৫% ও বাণিজ্যিকের জন্য ৩০%। এই গাইডে এর পেছনের যুক্তি ও গণনার পদ্ধতি ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
বাংলাদেশে বাড়িভাড়া আয়ের উপর কর হিসাব করার সময় প্রকৃত মেরামত খরচের রশিদ সংগ্রহ ও যাচাই করা একটি জটিল প্রশাসনিক বোঝা হতে পারে — উভয়পক্ষের (করদাতা ও এনবিআর) জন্য। এই সমস্যা সমাধানের জন্য আয়কর আইন একটি সরলীকৃত ফ্ল্যাট-রেট মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ ভাতা প্রবর্তন করেছে, যা প্রকৃত খরচ যাই হোক না কেন প্রযোজ্য হয়।
আবাসিক সম্পত্তির জন্য এই ভাতা মোট বার্ষিক ভাড়ার ২৫%, এবং বাণিজ্যিক সম্পত্তির জন্য (দোকান, অফিস স্পেস) ৩০% — কারণ বাণিজ্যিক স্থানে সাধারণত বেশি ব্যবহারজনিত ক্ষয় হয় ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বেশি হয়।
এই ভাতা দাবি করার জন্য কোনো প্রকৃত মেরামত বিল, ঠিকাদারের রশিদ বা ব্যয়ের প্রমাণ জমা দেওয়ার প্রয়োজন নেই — এটি সরাসরি মোট ভাড়া থেকে বিয়োগ করা হয়। এমনকি যদি প্রকৃত মেরামত খরচ শূন্য হয়, তবুও করদাতা এই ফ্ল্যাট ভাতা দাবি করতে পারেন।
একজন করদাতা যদি ভাবেন প্রকৃত মেরামত খরচ ফ্ল্যাট ভাতার চেয়ে বেশি, তবুও আইন অনুযায়ী শুধুমাত্র ফ্ল্যাট রেট গ্রহণযোগ্য — প্রকৃত অতিরিক্ত খরচের জন্য কোনো পৃথক দাবি অনুমোদিত নয় এই খাতে। এটি এই ব্যবস্থাটিকে সহজ ও প্রশাসনিকভাবে দক্ষ রাখে।
আয়কর আইন ২০২৩ এর গৃহসম্পত্তি আয় খাত অনুযায়ী মেরামত ভাতা, পৌরকর, বীমা ও ঋণের সুদ বাদ দিয়ে নিট ভাড়া আয় ও প্রকৃত অতিরিক্ত কর দায় গণনা করুন।
শতাংশ হলো ফ্ল্যাট মেরামত ভাতার হার (কোনো রশিদ প্রয়োজন নেই)
| মোট বার্ষিক ভাড়া | ৳360,000 |
| মেরামত ভাতা (25%) | −৳90,000 |
| পৌরকর | −৳15,000 |
| বীমা প্রিমিয়াম | −৳5,000 |
| ঋণের সুদ | −৳0 |
| নিট ভাড়া আয় | ৳250,000 |