লিজ চুক্তিতে অবশিষ্ট মূল্য কীভাবে নির্ধারিত হয়, এটি মাসিক ভাড়াকে কীভাবে প্রভাবিত করে এবং মেয়াদ শেষে আপনার বিকল্পগুলো কী।
লিজ চুক্তিতে 'অবশিষ্ট মূল্য' (residual value) বা 'বাইআউট মূল্য' হলো সেই পরিমাণ টাকা যা আপনি লিজ মেয়াদ শেষে পরিশোধ করলে সম্পদটির মালিকানা গ্রহণ করতে পারবেন। এটি সাধারণত সম্পদের আসল মূল্যের একটি শতাংশ হিসেবে প্রকাশ করা হয় — যেমন, একটি ২০ লাখ টাকার গাড়ির ২০% অবশিষ্ট মূল্য মানে মেয়াদ শেষে ৪ লাখ টাকা পরিশোধ করে গাড়িটি নিজের নামে করা যাবে।
অবশিষ্ট মূল্য যত বেশি নির্ধারণ করা হয়, মাসিক লিজ ভাড়া তত কম হয় — কারণ এনবিএফআই শুধুমাত্র সম্পদের মূল্য বিয়োগ অবশিষ্ট মূল্যের বর্তমান মূল্য (present value) অংশটুকু ভাড়ার মাধ্যমে আদায় করে, বাকিটা মেয়াদ শেষে এককালীন বাইআউট পেমেন্ট দিয়ে আদায় হয়। বিপরীতভাবে, অবশিষ্ট মূল্য যত কম (যেমন শূন্যের কাছাকাছি), মাসিক ভাড়া তত বেশি হবে, কারণ পুরো সম্পদমূল্যই ভাড়ার মধ্য দিয়ে পরিশোধ করতে হয়।
মেয়াদ শেষে আপনার সাধারণত তিনটি বিকল্প থাকে: (১) অবশিষ্ট মূল্য পরিশোধ করে সম্পদটির মালিকানা নেওয়া, (২) সম্পদটি এনবিএফআই-কে ফেরত দেওয়া (যদি চুক্তিতে এই অপশন থাকে), অথবা (৩) কিছু ক্ষেত্রে একটি নতুন সম্পদের জন্য পুরনো লিজ 'আপগ্রেড' করা।
একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা: অবশিষ্ট মূল্যও মূল লিজ ভাড়ার মতো একটি পৃথক চূড়ান্ত পেমেন্ট, এবং এটি নিয়মিত মাসিক ভাড়ার VAT গণনার অংশ নয় — তবে চুক্তির শর্তাবলীতে এই বাইআউট পেমেন্টে কোনো অতিরিক্ত চার্জ বা কর প্রযোজ্য কিনা তা যাচাই করে নেওয়া উচিত।
একই সম্পদ ও মেয়াদে রিডিউসিং-ব্যালেন্স EMI ঋণ এবং ভ্যাট-সহ লিজ ভাড়ার মধ্যে প্রকৃত মোট মালিকানা খরচ তুলনা করুন।
সম্পদের মূল্যের শতাংশ হিসেবে (মেয়াদ শেষে মালিকানা নিতে পরিশোধযোগ্য)
| খাত | ঋণ পথ | লিজ পথ |
|---|---|---|
| মাসিক পেমেন্ট | ৳35,591 | ৳46,849 |
| ডাউন পেমেন্ট | ৳400,000 | — |
| সুদ/ভাড়া (ভ্যাট-বাদে) | ৳535,460 | ৳2,444,280 |
| ১৫% ভ্যাট (লিজ ভাড়ায়) | ৳0 (প্রযোজ্য নয়) | ৳366,660 |
| প্রসেসিং ফি | ৳16,000 | — |
| অবশিষ্ট/বাইআউট মূল্য | — | ৳400,000 |
| মোট মালিকানা খরচ | ৳2,551,460 | ৳3,210,940 |